Home >> জীবনী >> তিনি ড: মুহম্মদ ইউনুস | অবশ্যই পড়ুন

তিনি ড: মুহম্মদ ইউনুস | অবশ্যই পড়ুন

Prof_yunus

২০১৬ সালের ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য অলিম্পিক গেমসের মশাল বহন করবেন একজন বাংলাদেশী!!!

তিনি ড: মুহম্মদ ইউনুস

তাকে নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশ, জাপানের সর্বস্তরের লোকজন কেমন মেতে থাকে সেটা দেখা যাক……..

বলেন তো দেখি, জাপানে সবচেয়ে পরিচিত বাংলাদেশি কে?

কোন পরিসংখ্যান নেই রে ভাই, তবে আমার মনে হয় “রোলা” নামক একজন মডেল। তার বাবা বাংলাদেশি। কিন্তু মার শরীরে জাপানিজ আর রাশিয়ার রক্ত। এই মেয়েটি এখন জাপানে সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেল, জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ওঠা একজন টিভি স্টার। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কথা টানেন, মাঝে মধ্যে বাংলায় দু’একটা বাক্য ও বলেন।

তবে সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধার জায়গাটি দখল করে আছেন আমাদের ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস। এটার ও কোন পরিসংখ্যান নেই। ওনার সাথে আমার পরিচয় গত নয় বছরের। এই নয় বছরে উনি নয়বার জাপানে এসেছেন। ওনার সাথে বিভিন্ন বৈঠকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আমার এই ধারনা।

প্রথমেই কয়েকটি ট্রিভিয়া দেই (জেনে লাভ নেই, না জানলে ও ক্ষতি নেই)
(ক)
গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ২১ তলা যে বিল্ডিং টা দেখছেন মিরপুরে, তার চার তলায় উনি বসতেন। লিফট ব্যবহার করতেন না। হেঁটে উঠতেন, হেঁটে নামতেন। ৩০ বছর চাকুরী জীবনে কোন ফাইল আগামী কালের জন্য টেবিলে ফেলে যাননি।
(খ)
ওনার রুমে কোন এয়ার কন্ডিশনার ছিল না। এই রুমে কত দেশের প্রেসিডেন্ট, রাজা রানী, রাষ্ট্রদূত, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এসে গেছেন, সবাইকে সিলিং ফ্যানের বাতাস খাইয়ে দিয়েছেন। নিজের জন্য ছিল একটা শক্ত কাঠের টেবিল আর শক্ত কাঠের চেয়ার। আসবাব পত্রের মধ্যে ছিল একটা বুকশেলফ।
(গ)
গ্রামীণ চেকের পোশাক পড়েন। কবে শুরু করেছেন আমি জানিনা। ৯৪ সালের একটা ছবিতে ওনাকে স্যুটেট ব্যুটেড দেখেছি। গ্রামীণ ভবনে গ্রামীণ চেকের একটা শো-রুম আছে। ওখানে ইউনুস ড্রেস কিনতে পাওয়া যায়। বিদেশীরা কেনেন। ছবি তোলেন।
(ঘ)
৫০ এর অধিক কোম্পানি বানিয়েছেন বাংলাদেশে, কোনটা তে ওনার এক পয়সার শেয়ার নেই। সুতরাং লভ্যাংশের কোন টাকাই ওনার পকেটে ঢুকে না। গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে একটা বেতন পেতেন। বাংলাদেশে সম্ভবত তার আয়ের উৎস এতটুকুই। তবে বিদেশে এক একটা বক্তৃতা থেকে অনেক পয়সা ঢোকার কথা। এক সময় বলা হতো, বিল ক্লিনটন হচ্ছেন পৃথিবীতে সবচেয়ে দামি স্পিকার। দ্বিতীয় দামি স্পিকারটি উনি। কোন তথ্য সূত্র খুঁজে পেলাম না। জার্মানির এক ইউনুস-ফ্যান থেকে শোনা কথা।
সেই টাকা যায় কোথায়? জানিনা, জানতে চাই ও না। ওনার ব্যাক্তিগত টাকা। তবে জাপানে বক্তৃতা মারফত যা আয় হয় তা চলে যায় গ্রামীণের বিভিন্ন অলাভজনক ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠান গুলোতে।
(ঙ)
গ্রামীণ গ্রুপের প্রত্যেকটি কোম্পানির নাম গ্রামীণ দিয়ে শুরু তারপর একটা স্পেস, তারপর বাকি অংশ। যেমন গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, গ্রামীণ শক্তি, গ্রামীণ টেলিকম। কেবল মাত্র গ্রামীণফোন কোম্পানির নামের মধ্যে কোন স্পেস নেই।
কেন জানেন?
নাম নিয়ে আলোচনার সময় বললেন, এই কোম্পানির উদ্দেশ্য হল মানুষকে কানেক্টিভিটি সার্ভিস দেয়া। শুরু হোক নাম দিয়ে। দিলাম দুটা শব্দকে কানেক্ট করে। স্পেস দিয়ে দুরে থাকতে দেব না। কাছে থাকুন।

গ্রামীণফোন যাত্রা শুরু করে ১৯৯৭ সালের মার্চের ২৬ তারিখে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে বলা হল- “আপনি উদ্বোধন করবেন। স্বাধীনতা দিবসে। প্রথম কলটি হবে আপনার এবং নরওয়ের প্রেসিডন্টের মধ্যে”। আর একই সাথে গ্রামীণফোন লেডী (পল্লীফোন ওয়ালা মহিলা) ২৮ জনের হাতে তুলে দিলেন মোবাইল ফোন। তাদের মোবাইল ফোনে ঢুকিয়ে দিলেন ১০টি নাম্বার। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে থানা পুলিশ অফিসার, জেলা কমিশনার ইত্যাদি। একজন গ্রামের মহিলার কাছে প্রধানমন্ত্রী কত দুরে ছিলেন, আর এই মোবাইল ফোনের কল্যাণে কত কাছে হয়ে গেল। কেউ আদৌ প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেছিল কিনা জানিনা।

যে কয়েকটি কাজের কথা শুনে বিস্মিত হয়েছি, তার কিছু উদাহরণ দেই।
(ক)
১৯৫৫ সাল। ওনার বয়স মাত্র পনের। ঐ বয়সেই আমাদের এই পৃথিবী নামক গ্রহটির অর্ধেকের চেয়ে বেশি চষে বেরিয়েছেন।
তার চেয়ে ও বিস্মিত হয়েছি কি শুনে জানেন? ওনাদের টিমে ছিল ২৭ জন বয়স্কাউট (২৪ জন পশ্চিম পাকিস্তানের)। যাবার সময় প্লেনে গেলেন কানাডায় একটা জাম্বুরিতে অংশ নিতে। হিসাব করে দেখলেন, প্লেনের টিকেটের চেয়ে ৩ টা মাইক্রোবাস কিনে ড্রাইভ করে ফিরে আসা অনেক সস্তা। আর যা অভিজ্ঞতা হবে সে কি আর টাকায় কেনা যাবে? আসার সময় কানাডা থেকে জাহাজে করে ইউরোপ। জার্মানি থেকে ৩ টা মাইক্রোবাস কিনে সেই মাইক্রোবাস চালিয়ে ৪ মাস ১১ দিনে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, তুরস্ক, ইরান তুরান পাড়ি দিয়ে দেশে ফিরলেন।
(খ)
পৃথিবীতে সাত জন মাত্র ব্যাক্তি আছেন যারা একসঙ্গে নোবেল, আমেরিকার প্রেসিডেন্সিয়াল এওয়ার্ড আর কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল এই তিনটি পুরষ্কার পেয়েছেন। এরা হলেন নেলসন ম্যান্ডেলা, মারটিন লুথার কিং, মাদার তেরেসা প্রমুখ। আর সপ্তম ব্যাক্তিটি হচ্ছেন আমাদের ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস। ২০১৩ সালে যখন কংগ্রেশনাল গোল্ড ম্যাডেল আনতে ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে গেলেন, তখন এই অধমের ও সুযোগ হয়েছিল সেখানে উপস্থিত হবার। সেখানে হৃদয়গ্রাহী এক বক্তৃতা দিলেন। কিভাবে শুরু করলো জানেন?
“এই ক্যাপিটলে এই মিলে আমি ৩ বার এসেছি। প্রথম এসেছি ১৯৭১ সালে। আমার বয়স ৩১। আমেরিকার একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই। দেশে যুদ্ধ চলছে। আমেরিকার সরকার আমাদের সাপোর্ট দিচ্ছে না। চাকুরী ইস্তফা দিয়ে ছুটে এলাম এই ক্যাপিটল হিলে। এই বিল্ডিং এর ভেতরে কি, বাইরে কি আমার কিচ্ছু জানা ছিলনা। কিন্তু কয়েকদিনেই এর সম্পুর্ন অ্যানাটমি জানা হয়ে গেল। প্রতিটা সিনেটর, কংগ্রেস ম্যান দের সাথে দেখা করেছি – ওনাদের সাপোর্ট আদায় করেছি। আমেরিকার সরকার আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল কিন্তু জনগণ করেনি, তাদের প্রতিনিধিরা ও ব্যাক্তিগত ভাবে করেননি। ”

ক্ষুদ্র কিছু অর্জনের কথা বলি।
(১)
এ যাবৎ ৪৮ টির ও বেশি Honorary doctorate ডিগ্রি পেয়েছেন। জাপানে থেকে পেয়েছেন ৪টি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি।
(২)
জীবনে কতগুলো এওয়ার্ড পেয়েছেন- তার সংখ্যা অবশ্যই একটা ফিনিট নাম্বার। উইকিপিডিয়াতে একটা অসম্পুর্ন তালিকা প্রকাশ করেছে। ১৩০ টির [৩]। জাপান থেকে পেয়েছেন ৪টি। কোয়ালিটি বলেন, কোয়ান্টিটি বলেন, জীবদ্দশায় এতোগুলো পুরস্কার এই ধরাতলে আর কেউ পেয়েছেন কিনা জানিনা।
(৩)
World Bank, UN থেকে শুরু করে ৩৫টির মত আন্তর্জাতিক সংস্থার Advisory Committee তে আছেন/ছিলেন। ৩৮টির মত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের Advisory বোর্ডে আছেন/ছিলেন।
(৪)
Fortune Magazine এ সারা বিশ্বের টপ ১২ জন উদ্যোক্তার লিস্ট তৈরি করলেন, সেখানে বিল গেটস আছেন, স্টিভ জবস আছেন। আর আছেন আমাদের ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস।
(৫)
মাইক্রো-ক্রেডিট কে শুরু করেছেন তা নিয়ে বিতর্ক আছে। উনি দেখিয়েছেন একটা ইফিশিয়েন্ট ফর্মাল ইমপ্লিমেন্টেশন মডেল। শুরু হল চট্টগ্রামের জোবরা নামের একটা গ্রাম থেকে। গেল আরেক শহরে, আরেক দেশে আরেক মহাদেশে। পৃথিবীর প্রায় ১৫৪ টি দেশে মাইক্রো-ক্রেডিট চালু আছে। ধনী দেশগুলোতে ও আছে। গ্রামীণ আমেরিকা শুরু হয় ২০০৮ সালে। মনে আছে ২০০৮ সালে লীম্যান ব্রাদার্স কলাপ্স করার পর একে একে ব্যাঙ্ক গুলো সঙ্কটের মধ্যে পড়লো? আর গ্রামীণ আমেরিকা তখন থেকে উত্থান শুরু হল। প্রথম ব্রাঞ্চ ম্যানহাটনে। বর্তমানে আমেরিকার বিভিন্ন স্টেইটের ১৮ টি ব্রাঞ্চে ৭০ হাজারের মত মহিলা দের ঋণ দিয়েছেন। লোনের পরিমাণ ৪২৫ মিলিয়ন ডলার।
(৬)
কেউ কি জানেন গ্রামীণ কে নিয়ে সারা বিশ্বে কয়শত পি,এইচ, ডি থিসিস হয়েছে? কোথাও খুঁজে পাইনি। জাপানে ১০০ টি র মত হবার কথা। পরিসংখ্যান নেই। ধারনা করছি। বিভিন্ন কনফারেন্সে গবেষকদের সাথে দেখা হয়। বলেন, আমার পি,এইচ,ডি ছিল গ্রামীণ এর অমুক বিষয় নিয়ে।
(৭)
সারা বিশ্বে সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫১টি। ২০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক ব্যবসার গবেষণাগার আছে। জাপানের সাথে যৌথ উদ্যোগে সোশ্যাল বিজনেস সংস্থার সংখ্যা সম্ভবত ৪ টি। গ্রামীণ ইউনিক্লো, গ্রামীণ ইয়ুগ্লেনা, গ্রামীণ ফেলিসিমো, গ্রামীণ অটোমেকানিক। জাপানের ভেতরে ও আছে একটি, নাম হলো হিউম্যান হারবার।
(৮)
গ্রামীণ শক্তি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সোলার হোমস সিস্টেম প্রোভাইডার। ২০১২ সালে মোট সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা এক মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। গত তিন বছরে যোগ হয়েছে আরো হাফ মিলিয়ন। কিছুদিন আগ পর্যন্ত জাপানের কিওসেরা কোম্পানি থেকে সোলার প্যানেল কেনা হতো। মাসে ১০ হাজার প্যানেল। কত বড় মার্কেট।

বুঝলাম এত এত ডিগ্রি পেয়েছেন এওয়ার্ড পেয়েছেন। নোবেল তো প্রত্যেক বছরই কেউ না কেউ পান। কিন্তু উনি এত শ্রদ্ধাশীল কেন?
অন্যান্য দেশের কথা জানিনা। জাপানের কথা বলি।
(১)
জাপানের সিনিয়র হাই স্কুলের ইংরেজি টেক্সট বইতে ওনাকে নিয়ে একটা চ্যাপ্টার আছে। সব স্কুল ছাত্রছাত্রীরা ওনাকে চেনেন। আমরা যেমন ছোটবেলায় ফুটবলার পেলে-র গল্প পড়েছি, মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর গল্প পড়েছি- এমন।
(২)
ওনার সামাজিক ব্যবসা নিয়ে একটা কার্টুন বই বের হয়েছে। জাপানে কার্টুন (মাঙ্গা) বেশ জনপ্রিয়।
(৩)
বছরে প্রায় ২ শতাধিক জাপানি ছাত্রছাত্রী বাংলাদেশে যায়, গ্রামীণ নিয়ে পড়াশুনা করতে। বাংলাদেশে যাবার সময় প্রচণ্ড আশঙ্কা নিয়ে গেলে ও ফেরার সময় ফিরে বিরাট একটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে। প্রফেসর ইউনুস যতই ব্যস্ত থাকেন না কেন তরুণদের জন্য সময় দিতে কখনো “না” করতে দেখিনি। আর এই তরুণ গুলো এমন চেহারা করে ওনার কথা শুনেন, মনে হয়- এই লোকটির সঙ্গেই দেখা হওয়াটাই বাকি ছিল। প্রচণ্ড অনুপ্রাণিত হয়ে জাপানে এসে সেমিনার করে, ফেসবুক ভাসিয়ে ফেলে। ইউনুস ভাইরাস ছড়াতে থাকে।

বছরে উনি একবার জাপানে আসেন। গড়ে ৫ দিন সময় দেন। মোটামুটি এক বছর আগেই শুরু হয় প্রস্তুতি। স্পিচ রিকোয়েস্ট, মিটিং রিকোয়েস্ট আসে ২ শত থেকে ৫ শত। ছাত্র, শিক্ষক, আমলা, ব্যবসায়ি, রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, পার্লামেন্ট মেম্বার, খেলোয়াড়, গায়ক, সাংবাদিক থেকে। আমরা একদিনে ছোট বড় ৮ টি মিটিং সেট করলে ৫ দিনে হয় ৪০টি। এই ৪০টি মিটিং বাছাই করা চাট্টি খানি কথা নয়। শুরু হয় M & A টাইপের মিটিং শিডিউলিং। দুই তিনটা মিটিং মার্জ করে ফেলা হয়।
মিটিং গুলো কি ধরনের হয় উদাহরণ দিচ্ছি।

(১)
নিসসান এর CEO Carlos Ghosn – অনেকটা নিজ থেকেই দেখা করতে চাইলেন। স্যার জাপানে আসার ঠিক ১৫ দিন আগে। শিডিউল তো সব ফিক্সড। কিন্তু CEO Carlos Ghosn বলে কথা। দুজনেই ব্যস্ত মানুষ। Ghosn বললেন, আমি নিজে গিয়ে ওনার হোটেলে কোন কাজের ফাঁকে দেখা করতে চাই। ওনাকে সময় দেয়া হল সকাল ১০ টায়। ২০ মিনিটের জন্য। Carlos Ghosn শুধু নিসসান নয় ফ্রান্সের Renault এর ও CEO।
কি স্বাভাবিক কথা বার্তা।
আমার কোম্পানি গাড়ি বানায়। গাড়ি বিক্রি করি।
আমরা সামাজিক ব্যবসা করি। অন্য রকম এক ব্যবসা। ব্যবসার মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা সমাধান করি।
গাড়ি অনেক সামাজিক সমস্যার সমাধান দিতে পারে।
জ্বি পারে।
পৃথিবীতে গাড়িতে চড়তে পারে কতজন মানুষ? এমন গাড়ি বানানো যায় না যাতে মানুষের গাড়ি চড়ার সামর্থ্য বেড়ে যায় আর সামাজিক সমস্যা গুলো আরো দ্রুত সমাধান করা যায়? গাড়ির স্পিড বাড়ানো ও একটা লক্ষ্য হতে পারে, সামাজিক সমস্যা সমাধানের স্পিড বাড়ানো ও আরেকটা লক্ষ্য হতে পারে।
Ghosn একটু ধাক্কার মত খেলেন। অফিসে ফিরেই আমাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য টিম বানিয়ে দিলেন। ছয় মাসের মাথায় ফ্রান্সে শুরু হলো নতুন এক সামাজিক ব্যবসা। মোবিলিটি ফর দ্যা পুওর। [৪]।

(২)
এই ঘটনা যদি ও জাপানের নয়। অ্যাডিডাস কোম্পানির CEO আসলেন দেখা করতে। ঢাকায়।
বললেন, আমরা জুতা বানাই। আমরা কিভাবে আপনার সামাজিক ব্যবসায় সাহায্য করতে পারি?
আপনাদের কোম্পানির মিশন স্ট্যেইটম্যান্ট টা কি?
একজন CEO যেভাবে উত্তর দেন, সেভাবেই দিলেন।
পৃথিবীতে খালি পায়ে হাঁটে কতজন লোক?
সংখ্যা বললেন।
জুতো পড়তে না পারার কারণে অনেক ধরনের রোগ বালাই হয়। আপনারা কি আপনাদের মিশন স্টেইটমেন্ট টা কে রি-রাইট করে দেখতে পারেন? যেমন- “আর XYZ বছরের মধ্যে আমরা পৃথিবীর কোন বাচ্চাকে জুতো না থাকার কারণে রোগী হতে দেব না”?
হোয়াট আ মিশন স্টেইটম্যান্ট!!
CEO সাহেব জার্মানি ফিরলেন, নতুন টিম তৈরি করলেন। লক্ষ্য হলো ওয়ান ডলারের জুতো বানাবেন। বানিয়ে ছাড়লেন। সবচেয়ে বেশি খালি পায়ে হাঁটে ভারতের শিশুরা। যেখানে সমস্যা উৎস, সমাধান করতে হবে সেই লোকালিটিতে। কোম্পানিটা তৈরি হল ভারতে। [৫] (৩)
একবার পত্রিকায় প্রফেসর ইউনুসের জাপানে আগমন বার্তা শুনে যোগাযোগ করলেন জাপানের ক্রাউন প্রিন্সেস মাসাকো সামার অ্যাসিস্ট্যান্ট। মাসাকো সামার বাবা প্রফেসর হিসাশি অওয়াদা একসময় প্রফেসর ইউনুসের সাথে জাতিসঙ্ঘের বোর্ড মেম্বার ছিলেন। নিজের বাবার কাছেই প্রফেসর ইউনুসের গল্প শুনেছিলেন। ক্রাউন প্রিন্স নারুহিতো প্রফেসর ইউনুস কে আমন্ত্রণ জানালেন অন্দরমহলের একটা রাজ রুমে। যেখানে অনেক ভি, আই, পি দের ও অ্যাক্সেস নেই।

(৪)
জাপানে এমনিতেই ক্রাইম রেট কম। কিন্তু একবার ক্রাইম করে জেল থেকে বের হলে তার সমাজে জায়গা নেই। সে আরেকটা ছোট ক্রাইম করে জেলে চলে যায়। এর সমাধান চাইতে এক জাপানি ভদ্রলোক স্যারের সাথে ৩০ মিনিটের সময় চাইলেন। জাপানের আত্মহত্যা, তোহকু ভূমিকম্প পরবর্তি সামাজিক সমস্যা নিয়ে তিন ব্যাক্তি উঠে পড়ে লেগেছেন তাদের জন্য যেন ৩০ মিনিট করে সময় দেয়া হয়। উনি বছরে একবার আসেন। এবার সুযোগ নষ্ট হলে আরো একবছর অপেক্ষা করতে হবে, এই অপেক্ষাটুকু করতে রাজি নন।
কি করা হলো জানেন? টোকিও থেকে ফুকুওকার ফ্লাইট দেড় ঘণ্টার মত। ওনার পাশে দুইটা অতিরিক্ত সিট রিযার্ভ করা হলো। ওনারা আলাদা টিকেট কাটলেন। বিমানের মধ্যে সেট করা হলো ৩ টি মিটিং।

এবার জাপানে আসবেন ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। পৃথিবীর ৮০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা আর সমাজের দূরত্ব অনেক। এই দূরত্বটাকে কিভাবে কাছে আনা যায় এ নিয়ে কী-নোট বক্তৃতা দেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাছাড়া টোকিও ডিজনিল্যান্ডের পাশেই বড় একটা হল নেয়া হয়েছে। দশ হাজার ছাত্রছাত্রী থাকবে। সামাজিক ব্যবসা নিয়ে একটা বিজনেস ডিজাইন কন্টেস্ট। সেখানে পুরস্কার দেবেন।

ওয়েলকাম ইন অ্যাডভান্স, প্রফেসর ইউনুস। বিলেটেড শুভ জন্মদিন।

পোস্ট :- জাপান কাহিনী
আশির আহমেদ
সহযোগী অধ্যাপক, কিয়ুশু বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান

বিঃদ্রঃ অনলাইনে ওনার একটা CV আছে। ২ মিনিট সময় থাকলে দেখার অনুরোধ রইলো। চাকুরী দেয়া লাগবে না।
http://www.muhammadyunus.org/index….

তথ্যসূত্র
[১] List of Honorary Degrees
http://www.muhammadyunus.org/index….
[২] প্রফেসর ইউনুসের জীবন বৃত্তান্ত
http://www.muhammadyunus.org/index….
[৩] উইকিপিডিয়াতে প্রফেসর ইউনুসের পুরস্কারের লিস্ট
https://en.wikipedia.org/wiki/List_
[৪] ফ্রান্সে গাড়ি নিয়ে সোশ্যাল বিজনেস
http://media.renault.com/global/en-
[৫] এক ডলারে অ্যাডিডাস জুতো – সামাজিক ব্যবসা
http://www.telegraph.co.uk/news/wor

বিঃ দ্রঃ মজার মজার রেসিপি ও টিপস, রেগুলার আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ আমার লাইফস্টাইল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *