Home >> ধর্ম ও জীবন >> কোরবানির জরুরি মাসআলা : শেষ পর্ব

কোরবানির জরুরি মাসআলা : শেষ পর্ব

বন্ধ্যা পশুর কোরবানি

মাসআলা : বন্ধ্যা পশুর কোরবানি জায়েয।

[রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫]

নিজের কোরবানির পশু নিজে জবাই করা

মাসআলা : কোরবানির পশু নিজে জবাই করা উত্তম। নিজে না পারলে অন্যকে দিয়েও জবাই করাতে পারবে। এক্ষেত্রে কোরবানিদাতা পুরুষ হলে জবাইস্থলে তার উপস্থিত থাকা ভালো।

[মুসনাদে আহমদ ২২৬৫৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২২-২২৩, আলমগীরী ৫/৩০০, ইলাউস সুনান ১৭/২৭১-২৭৪]

জীবিত ব্যক্তির নামে কোরবানি

মাসআলা : যেমনিভাবে মৃতের পক্ষ থেকে ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কোরবানি করা জায়েয তদ্রূপ জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার ইসালে সওয়াবের জন্য নফল কোরবানি করা জায়েয। এ কোরবানির গোশত দাতা ও তার পরিবারও খেতে পারবে।

বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির কোরবানি অন্যত্রে করা

মাসআলা : বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির জন্য নিজ দেশে বা অন্য কোথাও কোরবানি করা জায়েয।

মুসাফিরের জন্য কোরবানি

মাসআলা : যে ব্যক্তি কোরবানির দিনগুলোতে মুসাফির থাকবে (অর্থাৎ ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে) তার উপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।

[ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৪, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫]

নাবালেগের পক্ষ থেকে কোরবানি

মাসআলা : নাবালেগের পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়া অভিভাবকের উপর ওয়াজিব নয়; বরং মুস্তাহাব।

[রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৫; ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫]

কোরবানির পশুর হাড় বিক্রি

মাসআলা : কোরবানির মৌসুমে অনেক মহাজন কোরবানির হাড় ক্রয় করে থাকে। টোকাইরা বাড়ি বাড়ি থেকে হাড় সংগ্রহ করে তাদের কাছে বিক্রি করে। এদের ক্রয়-বিক্রয় জায়েয। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু কোনো কোরবানিদাতার জন্য নিজ কোরবানির কোনো কিছু এমনকি হাড়ও বিক্রি করা জায়েয হবে না। করলে মূল্য সদকা করে দিতে হবে। আর জেনে শুনে মহাজনদের জন্য এদের কাছ থেকে ক্রয় করাও বৈধ হবে না।

[বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫, কাযীখান ৩/৩৫৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১]

রাতে কোরবানি করা

মাসআলা : ১০ ও ১১ তারিখ দিবাগত রাতে কোরবানি করা জায়েয। তবে রাতে আলোস্বল্পতার দরুণ জবাইয়ে ত্রুটি হতে পারে বিধায় রাতে জবাই করা অনুত্তম। অবশ্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকলে রাতে জবাই করতে কোনো অসুবিধা নেই।

[ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৫, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৬, আহসানুল ফাতাওয়া ৭/৫১০]

শরীকে কোরবানি করা

মাসআলা : উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কোরবানি করা জায়েয।

[সহীহ মুসলিম ১৩১৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭]

কোনো অংশীদারের গলদ নিয়ত হলে

মাসআলা : যদি কেউ আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কোরবানি না করে শুধু গোশত খাওয়ার নিয়তে কোরবানি করে তাহলে তার কোরবানি সহীহ হবে না। তাকে অংশীদার বানালে শরীকদের কারো কোরবানি হবে না। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শরীক নির্বাচন করতে হবে।

[বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৮, কাযীখান ৩/৩৪৯]

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : মাওলানা মিরাজ রহমান
সৌজন্যে : মাসিক আল-কাউসার

বিঃ দ্রঃ মজার মজার রেসিপি ও টিপস, রেগুলার আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ আমার লাইফস্টাইল

Check Also

korbani

কোরবানির জরুরি মাসআলা : পর্ব ৫

জবাইয়ে একাধিক ব্যক্তি শরীক হলে মাসআলা : অনেক সময় জবাইকারীর জবাই সম্পন্ন হয় না, তখন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *