Home >> ধর্ম ও জীবন >> কোরবানির জরুরি মাসআলা : পর্ব ৭

কোরবানির জরুরি মাসআলা : পর্ব ৭

korbani

দরিদ্র ব্যক্তির কোরবানির হুকুম

মাসআলা : দরিদ্র ব্যক্তির উপর কোরবানি করা ওয়াজিব নয়; কিন্তু সে যদি কোরবানির নিয়তে কোনো পশু কিনে তাহলে তা কোরবানি করা ওয়াজিব হয়ে যায়।

[বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯২]

কোরবানি করতে না পারলে

মাসআলা : কেউ যদি কোরবানির দিনগুলোতে ওয়াজিব কোরবানি দিতে না পারে তাহলে কোরবানির পশু ক্রয় না করে থাকলে তার উপর কোরবানির উপযুক্ত একটি ছাগলের মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। আর যদি পশু ক্রয় করে ছিল, কিন্তু কোনো কারণে কোরবানি দেওয়া হয়নি তাহলে ঐ পশু জীবিত সদকা করে দিবে।

[বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৪, ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫]

দাঁত নেই এমন পশুর কোরবানি

মাসআলা : যে পশুর একটি দাঁতও নেই বা এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে, ঘাস বা খাদ্য চিবাতে পারে না এমন পশু দ্বারাও কোরবানি করা জায়েয নয়।

[বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৫, আলমগীরী ৫/২৯৮]

যে পশুর শিং ভেঙ্গে বা ফেটে গেছে

মাসআলা : যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশুর কোরবানি জায়েয নয়। পক্ষান্তরে যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙ্গে গেছে বা শিং একেবারে উঠেইনি সে পশু কোরবানি করা জায়েয।

[জামে তিরমিযী ১/২৭৬, সুনানে আবু দাউদ ৩৮৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৪, আলমগীরী ৫/২৯৭]

নতুন পশু ক্রয়ের পর হারানোটা পাওয়া গেলে

মাসআলা : কোরবানির পশু হারিয়ে যাওয়ার পরে যদি আরেকটি কেনা হয় এবং পরে হারানোটিও পাওয়া যায় তাহলে কোরবানিদাতা গরীব হলে (যার উপর কোরবানি ওয়াজিব নয়) দুটি পশুই কোরবানি করা ওয়াজিব। আর ধনী হলে কোনো একটি কোরবানি করলেই হবে। তবে দুটি কোরবানি করাই উত্তম।

[সুনানে বায়হাকী ৫/২৪৪, ইলাউস সুনান ১৭/২৮০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৯, কাযীখান ৩/৩৪৭]

গর্ভবতী পশুর কোরবানি

মাসআলা : গর্ভবতী পশু কোরবানি করা জায়েয। জবাইয়ের পর যদি বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায় তাহলে সেটাও জবাই করতে হবে। তবে প্রসবের সময় আসন্ন হলে সে পশু কোরবানি করা মাকরূহ।

[কাযীখান ৩/৩৫০]

হাজীদের উপর ঈদুল আযহার কোরবানি

মাসআলা : যেসকল হাজী কোরবানির দিনগুলোতে মুসাফির থাকবে তাদের উপর ঈদুল আযহার কোরবানি ওয়াজিব নয়। কিন্তু যে হাজী কোরবানির কোনো দিন মুকীম থাকবে সামর্থ্যবান হলে তার উপর ঈদুল আযহার কোরবানি করা জরুরি হবে।

[ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৩, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫, ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১৬৬]

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কোরবানি করা

মাসআলা : সামর্থ্যবান ব্যক্তির রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কোরবানি করা উত্তম। এটি বড় সৌভাগ্যের বিষয়ও বটে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রা.কে তার পক্ষ থেকে কোরবানি করার ওসিয়্যত করেছিলেন। তাই তিনি প্রতি বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকেও কোরবানি দিতেন।

[সুনানে আবু দাউদ ২/২৯, জামে তিরমিযী ১/২৭৫, ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮, মিশকাত ৩/৩০৯]

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : মাওলানা মিরাজ রহমান
সৌজন্যে : মাসিক আল-কাউসার

বিঃ দ্রঃ মজার মজার রেসিপি ও টিপস, রেগুলার আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ আমার লাইফস্টাইল

Check Also

korbani

কোরবানির জরুরি মাসআলা : পর্ব ৫

জবাইয়ে একাধিক ব্যক্তি শরীক হলে মাসআলা : অনেক সময় জবাইকারীর জবাই সম্পন্ন হয় না, তখন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *