Home >> প্রকৃতি ও জীবন >> পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপনের বিকল্প নেই

পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপনের বিকল্প নেই

Nature-tree-plantation

গাছ শুধু পৃথিবীরই বন্ধু নয় আখেরাতেরও বন্ধু। হাদিসে আছে- যে একটি ফলগাছ লাগাবে সেই ফল যত মানুষ খাবে এবং গাছের ছায়ায় উপকৃত হবে তত সওয়াব গাছ রোপণকারী পাবে। বৃক্ষরোপণ করা সদকায়ে জারিয়া। হতে পারে এ উছিলায় বৃক্ষরোপণকারী বেহেশত পেতে পারেন।

পরিবেশ উন্নয়নে গাছের বিকল্প নেই। গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে অক্সিজেন ত্যাগ করে প্রাণিকূলকে বাঁচিয়ে রাখে। এছাড়াও গাছ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে পরিবেশ ঠাণ্ডা রাখে। বন্যা, খরা, ঝড়, টর্নেডো, জলোচ্ছ্বাস, ওজনস্তর ক্ষয়, ভূমিক্ষয়, জলবায়ু পরিবর্তন, শব্দদূষণ, মাটিদূষণ, পানিদূষণ, বায়ুদূষণ প্রতিরোধ করে। এক কথায় বলতে গেলে প্রকৃতির অমূল্য ও প্রধান সম্পদ হচ্ছে বৃক্ষ। বৃক্ষ আছে বলেই জীবন আছে। বৃক্ষ না থাকলে জীবনের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি প্রয়োজন। বাংলাদেশে আছে ৯ থেকে ১২ ভাগ। জাপানে আছে ৬৩ ভাগ, মালয়েশিয়ায় ৬২, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৬৫, ইন্দোনেশিয়ায় ৩৫, ফিলিপাইনে ৩৬, থাইল্যান্ডে ৪৮, লন্ডনে ৪৩, নেপালে ২৩, শ্রীলংকায় ৪৭ ও মিয়ানমারে ৬৭ ভাগ এলাকায় বন রয়েছে। দেশে বর্তমানে ২৫ লাখ ২০ হাজার হেক্টর বন এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪৫ ভাগ এলাকায় গাছ রয়েছে। পাহাড়ি বন ৬৪৭ হাজার হেক্টর, শালবন ১২০ হাজার হেক্টর ও সুন্দরবন ৬১০ হাজার হেক্টর রয়েছে। বন থেকে প্রতি বছর প্রায় ২২ লাখ ঘনফুট বনজ দ্রব্যাদি পাওয়া যায়, যার মূল্য কয়েকশ’ কোটি টাকা। এছাড়াও মধু, ফল, তেল, রসসহ বিভিন্ন বনজ সম্পদ পাওয়া যায়।

বৃক্ষরোপণে ফসল চাষাবাদের মতো কষ্ট নেই, ঝামেলা নেই, রোগবালাই, পোকামাকড়, খরা, বন্যা, শৈত্যপ্রবাহ, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বড় কোনো ঝামেলা কিংবা ঝুঁকি নেই বললেই চলে। ফসলের মতো সমতল ভালো জমির প্রয়োজনও হয় না। উঁচ-নিচু জমি, পতিত জমি, রাস্তার পাড়, নদীর পাড়, বাড়ির আশপাশে, ফসলের জমিতে, জমির আইলে, প্রতিষ্ঠানের আশপাশসহ যে কোনো স্থানে বৃক্ষরোপণ করা যায়। আবার গাছের নিচে বিভিন্ন ফসল যেমন- আদা, হলুদ, কচু, শাকসবজি ইত্যাদি চাষ করা যায়।

ঘরে বসেই গাছ বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আয় করা যায়। ১৫ টাকা দিয়ে একটি ক্যাকটাস কিনে ১৫ থেকে ২০ বছর পর ওই ক্যাকটাস লাখ টাকায় বিক্রি করা যায়। এমনিভাবে ঘরের ভেতর, বাসার ছাদে, বারান্দায়, ঘরের আঙিনায় গাছ রোপণ করে লাখ লাখ টাকা আয় করা যায়। গাছ লাগানো মানে কম খরচে অধিক লাভ। শুধু দরকার পরিচর্যা।

গাছের চারা রোপণের জন্য স্থান নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উপযুক্ত স্থানে উপযুক্ত গাছের চারা রোপণ করলে গাছ খুব দ্রুত বাড়ে এবং ভালো ফলন পাওয়া যায়। ফলদ ও ভেষজ গাছের চারা রোপণ করা লাভজনক বেশি। এতে কাঠ, ফল ও ওষুধ পাওয়া যায়। গাছের চারা বেলে-দোআঁশ, এঁটেল, উর্বর, সুনিষ্কাশিত, উঁচু মাটিতে রোপণ করতে হয়। সূর্যালোক, বন্যামুক্ত, আলো-বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে চারা রোপণ করা উচিত। কোথায় কোন গাছ ভালো জন্মে এর একটি বিবরণ নিচে দেয়া হল-

বসতবাড়ির দক্ষিণে : কম ঝোপালো ও ছোট গাছ লাগাতে হয়। এতে বাড়িতে রোদ ও আলো পড়ে। বাড়ির দক্ষিণে রোপণের উপযোগী গাছ হল- পেয়ারা, লেবু, নারিকেল, সুপারি, পেঁপে, জাম্বুরা, নিম, দেবদারু, ডালিম, মেহেদি এবং বিভিন্ন রকম ভেষজ গাছ।

বসতবাড়ির পূর্ব ও পশ্চিমে : মাঝারি উঁচু ও মাঝারি ঝোপালো গাছ লাগালে ভোরে ও সন্ধ্যায় বাড়ির আঙিনায় আলো থাকবে। এখানে লাগাতে পারেন লিচু, আম্রপালি, পেয়ারা, বেল, আতা, বরই, কলা, ডালিম, খেজুর ইত্যাদি গাছ।

বসতবাড়ির উত্তরে : বড় গাছ রোপণ করা যায়। এতে শীতকালে ঠাণ্ডা বাতাস এবং গ্রীষ্মকালে ঝড়-তুফান প্রতিরোধ হবে। এখানে কাঁঠাল, আম, জাম, কামরাঙা, হরীতকী, বাঁশ ইত্যাদি গাছের চারা রোপণ করা যায়।

রাস্তার পাশে : ডালপালা ছাঁটাই করে রাখা যায় এবং উঁচু সুদৃশ্য গাছের চারা রোপণ করতে হয়। যেমন- বাবলা, নিম, কাঁঠাল, হরীতকী, শিমুল, নারকেল, দেবদারু, সুপারি, পাম ইত্যাদি।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে : স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সামনে এবং আশপাশে শোভাবর্ধনকারী ও ছায়া প্রদানকারী গাছের চারা রোপণ করতে হয়। যেমন- কৃষ্ণচূড়া, দেবদারু, নারকেল, সুপারি, খেজুর, পাম, নিম, ঝাউ, অর্নামেন্টাল গাছ, কাঁঠাল, আম, লিচু ইত্যাদি।

পুকুর পাড়ে : পুকুর পাড়ের মাটি যাতে না ভাঙে, শোভাবর্ধন করে এমন গাছ লাগানো উচিত। কলা, নারিকেল, সুপারি, পেয়ারা, লেবু, লিচু, ডালিম, পেঁপে, নিম ইত্যাদি গাছের চারা রোপণ করা যেতে পারে। এতে পুকুরের পানিতে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদনে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।

নদীর ধারে : বেশি শিকড় বিস্তার করে, শক্ত মজবুত, বড়, পানি সহিষ্ণু গাছ রোপণ করা উচিত। যেমন-হিজল, ছাতিম, পিটালি, কদম, জামরুল, বট, বাঁশ, বাবলা, বেত, মূর্তা, শিমুল ইত্যাদি।

উঁচু পতিত জমিতে : প্রায় সব ধরনের গাছ রোপণ কর যায়। আম, জাম, নিম, কাঁঠাল, মেহগনি, সেগুন, আমলকী, লটকন, হরীতকী, বহেরা, মহুয়া, নাগেশ্বর, লিচু, পেয়ারা ইত্যাদি।

উপকূলীয় অঞ্চলে : বাতাস প্রবাহিত হতে পারে, লম্বা হালকা পাতাবিশিষ্ট গাছ, লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে এমন গাছ রোপণ করা উচিত। যেমন- ছৈলা, নারকেল, সুন্দরী, গরান, গেওয়া, গোলপাতা, সুপারি, খেজুর, মান্দার, কড়ই, বাবলা ইত্যাদি।

স্যাঁতসেঁতে নিচু জমিতে : জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে এমন গাছ রোপণ করা উচিত। যেমন- হিজল, কদম, পিটালি, বেত, মূর্তা, বাঁশ, মান্দার, জারুল ইত্যাদি।

বাঁধের ধারে : যেসব গাছের শিকড় বিস্তৃত, শক্ত, ডালপালা শক্ত, এমন গাছ রোপণ করা উচিত। যাতে বাঁধের মাটি ক্ষয় না হয় এবং বাঁধ না ভাঙে। যেমন- বট, আমড়া, কৃষ্ণচূড়া, বাবলা, বাঁশ, জাম, কড়ই ইত্যাদি।

হাটবাজারে : ছায়া বিস্তার করে এমন গাছ লাগানো উচিত। যেমন- কৃষ্ণচূড়া, কড়ই, বট, নিম, আম, কাঁঠাল, ইত্যাদি।

জমির আইলে : শিকড় কম বিস্তারকারী, গভীরমূলী, কম ছায়া প্রদানকারী এবং ডালপালা ছাঁটাইযোগ্য বৃক্ষ রোপণ করা যায়। যেমন- খেজুর, সুপারি, দেবদারু ইত্যাদি।

সব জেলা ও উপজেলার বৃক্ষমেলা, সরকারি-বেসরকারি নার্সারি, এনজিও নার্সারি, ব্যক্তিগত নার্সারি, বিএডিসি হর্টিকালচার সেন্টার, কৃষি সম্প্রসারণ হর্টিকালচার সেন্টারে ভালো চারা পাওয়া যায়। তবে হাটবাজার থেকে ফলের চারা না কেনাই ভালো। কারণ এগুলোর জাত চেনা যায় না এবং কলম না বীজের চারা তাও জানা যায় না। সবসময় কলমের চারা কেনা উচিত। কারণ ফল দ্রুত দেয় এবং ফলন বেশি হয়।

বিঃ দ্রঃ মজার মজার রেসিপি ও টিপস, রেগুলার আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ আমার লাইফস্টাইল

Check Also

maldives

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আঁধার মালদ্বীপে

পৃথিবীর অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত দেশ ভারত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র মালদ্বীপ। প্রকৃতি এখানে এমনভাবে সেজেছে যে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *